✍ পছন্দের চাকরি বা পরীক্ষার নোটিশ খুঁজুন ⇩

নিয়োগ পরীক্ষার খরচ কেন বেকার চাকরি প্রার্থীদের বহন করতে হবে?

যে কোনো সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আবেদন প্রক্রিয়ার শুরুতেই আসে আবেদন ‘ফি’র কথা। ছাত্র জীবনে প্রায় সব শিক্ষার্থীকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অনেক কষ্ট সহ্য করে পড়ালেখা শেষ করতে হয়। তারপর বেকারত্বের তকমা মাথায় নিয়ে হন্যে হয়ে চাকরির খোঁজে ঘুরতে হয়। কিন্তু বিভিন্ন সরকারি চাকরির ‘ফি’ মানেই বেকার চাকরি প্রার্থীর জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।

দু’একটি ব্যতিক্রম বাদে প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে বেকার চাকরি প্রার্থীকে মোটা অঙ্কের ‘ফি’ দিতে হয়। প্রায় সব প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরির আবেদন ‘ফি’ অন্তত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। আবার কোনো কোনো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ফি’ নিয়ে থাকে। এই মোটা অঙ্কের ‘ফি’ লাখ লাখ বেকার চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে নেয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত? এক্ষেত্রে বেকার চাকরি প্রার্থীদের আশার আলো দেখিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৫ সালের শেষদিকে ব্যাংকে চাকরির আবেদন করতে কোনো ধরনের ‘ফি’ না নিতে নির্দেশনা জারি করে। এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। বর্তমানে ব্যাংকগুলোয় আবেদন করতে এখন আর কোনো ‘ফি’ লাগে না।

বাংলাদেশে এমনিতেই বেকারের সংখ্যা বেশি। কিন্তু শূন্য পদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। বিভিন্ন পদে লাখ লাখ প্রার্থী আবেদন করলেও শেষমেশ চাকরি হয় অল্পসংখ্যক চাকরি প্রার্থীর। অথচ আবেদনের শুরুতে সব চাকরি প্রার্থীকে মোটা অঙ্কের ‘ফি’ পরিশোধ করতে হয়। চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে নিয়োগ পরীক্ষার ব্যয় বাবদ টাকা নেয়া কতটা যৌক্তিক? নিয়োগ পরীক্ষার খরচ কেন বেকার চাকরি প্রার্থীদের বহন করতে হবে? একাডেমিক পড়ালেখা শেষে এমনিতেই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপে বেকার চাকরি প্রার্থীরা অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করে থাকে। শিক্ষিত বেকাররা যখন চাকরির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার চেষ্টা করে, তখন রাষ্ট্রের উচিত তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা। এটা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে মনে করি।

প্রায় প্রতিটি পরিবার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে, কখন পরিবারের সদস্যরা চাকরি পেয়ে তাদের দুঃখ ঘোচাবে। সদ্য পড়ালেখা শেষ করা একজন বেকারকে এ সময়টায় কত কষ্ট ও মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়, তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ জানে না। এমন মুহূর্তে চাকরির জন্য আবেদনের জন্য একের পর এক টাকা জোগাড় যেন ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি’। আবার অনেক সময় চাকরির আবেদন ‘ফি’ দিয়েও পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না!


উন্নত দেশে বেকারদের কর্মসংস্থানের আগ পর্যন্ত সরকার বেকার ভাতা দিয়ে থাকে। আমাদের দেশে বেকার ভাতা না হোক, বেকার চাকরি প্রার্থীরা যাতে অন্তত বিনা ‘ফি’তে পরীক্ষা দিতে পারে, এ ব্যবস্থা করা উচিত। একজন বেকার চাকরি প্রার্থীর জন্য সামান্য ‘ফি’ মানে অনেক কিছু। অবিলম্বে চাকরির ‘ফি’র নামে এভাবে বেকারদের ওপর শোষণ বন্ধ হোক। লাখ লাখ টাকা খরচ করে সরকার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে গড়ে তুলছে।
https://www.jugantor.com/assets/news_photos/2018/01/17/image-7745-1516165139.jpg
এই তরুণরাই তো একদিন দেশের হাল ধরবে। তাদের সামান্য চাকরির পরীক্ষার ‘ফি’ থেকে মুক্তি দেয়া যাবে না? শিক্ষিত বেকাররা এদেশের সম্পদ। তবে কেন তাদের ওপর চাকরির পরীক্ষার আবেদন ‘ফি’ নামের অত্যাচারের স্টিমরোলার চলতে থাকবে? লাখ লাখ বেকার তরুণ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে সব ধরনের চাকরিতে আবেদন ‘ফি’ পুরোপুরি উঠিয়ে দেয়া উচিত।

শিক্ষার্থী, ১ম ব্যাচ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
sadonsarker2005@gmail.com

পোস্টটি শেয়ার করুন ...

"Job Circular " Android App

সবার আগে প্রতিদিনের বিভিন্ন পত্রিকা এবং অনলাইনে প্রকাশিত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের চাকরির বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার নোটিশ ও নিয়োগ প্রস্তুতি নিয়ে এই অ্যাপ।
প্রধান বৈশিষ্ট্য
🔔 "Notification" এর মাধ্যমে আপনি অ্যাপ Open না করেই আপনার মোবাইলের Notification বার এ জানতে পারবেন গুরুত্বপূর্ণ চাকরির খবর এবং পরীক্ষার নোটিশ। বিস্তারিত জানুন
Get it on Google Play

FB Comments
Comments
Disqus
Comments :

Comments