৩৮তম লিখিত প্রস্তুতি (গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা)

গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা. ম্যাথে মন দিয়ে ঠান্ডাভাবে মাথা খাটান কথায় আছে না, পেট শান্তি ত দুনিয়া শান্তি, ঠিক তাই আপনি ম্যাথ পারেন ত দুনিয়া পারেন। একজন মানুষ কত মেধাবী সেটা প্রকাশ পায় আপনি ম্যাথ কেমন পারেন, তাতেই। ম্যাথ না পারলে আপনি কম মেধাবী সেটা না, মেধার বিস্ফোরণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। শচীন টেন্ডুল্কার না গুগলের CEO সুন্দার পিচাই, কে বেশি মেধাবী সেই দ্বন্দ্বে যেতে চাই না। তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে এক একজন উজ্জল নক্ষত্র ।
বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি নাম্বার উঠে 'গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতায়। সুতরাং এই বিষয়ে আপনার পরিকল্পিত পড়াশোনা, ক্যাডার হওয়ার দৌড়ে এবং মানসিকতার দিক দিয়ে আপনাকে এগিয়ে রাখবে। সবচেয়ে রিস্ক আবার এখানেই।

গণিত ও ইংরেজি পরীক্ষার পর পুরো পরীক্ষার পরিবেশ ও পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে যায়। শেয়ার বাজারের দরপতনের মত হয়ে যায়। অনেকে আগ্রহ হারায়ে ফেলে, অনেকে আবার জ্বলে উঠে।

বিজ্ঞানের রানী বলা হয় গণিত কে। তাই গণিত থেকে উদ্ভূত হয়েছে অনেক বিষয়, রানী ত! কোথায় গণিত নেই প্রকৌশল, পরিসংখ্যান, পপুলেশন সাইন্স, সব কিছুতেই গণিত।

গণিত কী?

গণিত হল কৌশল, অর্থাৎ আপনি গণিত জানেন মানে অনেক কৌশল জানেন, অথবা গণিত চর্চা করলে কৌশল জানতে পারবেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে এক ১২ বছর বয়সী স্কুল ছাত্র প্রশ্ন করেছিল, প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্ট, আমরা যে এত ম্যাথ শিখছি, এটা কী রাষ্ট্র চালাতে কোন কাজে লাগে?? উত্তরে ওবামা বলেছিল, এই যে তুমি ছোট ছোট যোগ, বিয়োগ, গুন,ভাগ শিখছ, এগুলো এক একটা ছোট ছোট কৌশল, উপরের ক্লাসে উঠবে আরও বড় বড় কৌশল জানবে, এক সময় অনেক বড় হবে, বড় বড় কৌশল জানবে, দার্শনিক, লেখক, আইনজীবি, নভোচারী, পাইলট, উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, নায়ক, গায়ক ও রাষ্ট্রনায়ক হবে, তখন এই কৌশল গুলো কাজে লাগবে, এই যে আমি আমেরিকা চালায় কত বড় দেশ, এই দেশ চালাতে অনেক কৌশল লাগে , ম্যাথ না করলে কৌশল শিখতাম কী করে!!!

বারাক ওবামা কিন্তু সিভিল সার্ভিসের কথা বলে নাই। পাবলিক সার্ভিস কমিশন কিন্তু ঠিকই বুঝে, ম্যাথ না করে, কৌশল না জেনে ক্যাডার হবেন, তা কখনও হতে পারে না!!

আপনি জীবনে যত কৌশলী, সুকৌশলী বা প্রকৌশলী হবেন ততই সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছাবেন। দেখেন কত রসখসহীন বিদ্যা, প্রকৌশলে পড়াশুনা করে কত চমৎকার উপস্থাপনা উপহার দেন আমাদের সবার প্রিয় প্রকৌশলী, প্রিয় পারসোনালিটি হানিফ সংকেত। তাঁর উপস্থাপনায় তিনি কোন সংকেত টাই বা আমাদের কাছে পৌছে দেন না। বাইনারি, ডেসিমাল, এনালগ, হাইব্রিড, পাটিগণিত, বীজগনিত, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, পরিমিতি, রাজনীতি, রীতিনীতি, প্রীতি, পিরীতি, নীতি, ইতি,তিতি,সিথি ইত্যাদি সব আছে গণিতে, জীবনের গণিতে।

ব্যাংক, বিসিএস, মেডিক্যাল সব খানেই গণিত লাগে, তাহারা এতো টাকা গণে কীভাবে, ভুল ত হয়না। আবার যারা অবৈধ টাকা আয় করে, তারা কখনও ভুল করে না।

শুধু গণিতে ভুল হয়, বেকারদের, বিসিএস পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহন করে তাদের। ম্যাথে ম্যাজিক নাই তবে নিয়মিত চর্চা করে যখন আপনি একটা লেভেলে পৌছে যাবেন, ম্যাথ পারবেন তখন বুঝবেন ম্যাথে সত্যি ম্যাজিক আছে। ম্যাথ পেরে যে মজা পাওয়া যায়, অন্য কোন বিষয়ে তা পাওয়া যায় না।
ম্যাথ এক্সাম ভাল দিলে আপনার কনফিডেন্স লেভেল অনেক বেড়ে যাবে, যাতে হাত দিবেন তাতেই সোনা, যারা ম্যাথ ভাল পারে ছাত্র জীবনে তাদের টাকার অভাব হয় নি, চাকরির পরীক্ষায় যারা ম্যাথ ভাল পারে তাদের একাধিক ভাল চাকরি হয়। প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ব্যাংক, বিসিএস, নন-ক্যাডার যেটাই হোক, আপনি ম্যাথে ভুল না করলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক, প্রায় হয়েই যায়। ১ম পছন্দের জব পেতে হলে ম্যাথে ভাল করতেই হবে।

গণিতের নাম শুনে আমাদের অনেকের গায়ে জ্বালা করলেও বিকল্প পথ নেই, চাকরির পরীক্ষায় ভাল করতে হলে ম্যাথের উড়জাহাজ হতে হবে, চেষ্টা করলে সব সম্ভব। কারণ প্রায় সব চাকরির পরীক্ষাতেই গণিতের উপর প্রশ্ন করা হয়। এসএসসি ও এইচএসসি তে ম্যাথে লেটার মার্ক পাওয়া ছাত্রটাও চর্চা না করার ফলে অনেক দুর্বল হয়ে যায়। যারা মেডিকেল বিজ্ঞানে পড়ে তারাও এক সময় ম্যাথ ভুলে যায়, কিন্তু চর্চা করে তারাই আবার সিভিল সার্ভিসে ভাল করছে, তাহলে আপনি কেন পারবেন না? আপনি ম্যাথে ভাল না, এটা কখনও মানবেন না, দুর্বলতা আরও বেড়ে যাবে। আর চর্চা না করে এড়িয়ে চললে আপনার প্রচুর ভয় কাজ করবে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

ম্যাথ নিয়ে মজার গল্প বলি- “২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস দেশের অবস্থা খুব খারাপ, ট্রেন ছাড়া ঢাকা-রাজশাহী যাতায়াত করা প্রায় অসম্ভব। প্রিপারেশন প্রায় শূন্যের কোঠায়, ম্যাথ আগে থেকেই ভাল পারতাম, তবে জবের জন্যে পর্যাপ্ত না, জীবনের প্রথম চাকরির পরীক্ষা, জনতা ব্যাংকের অফিসার পদে প্রিলি পরীক্ষা, ঢাকা গিয়ে উঠলাম রাজশাহী ইউনিভারসিটির এক বড় ভাইয়ের কাছে, জায়গাটা চানখারপুল, হোসনি দালানের পাশে। ভাইয়ের দুই রুমমেট- একজন জগন্নাথ ইউনিভারসিটির অন্যজন ঢাকা ইউনিভারসিটির, দু জনেরই বাড়ি বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত পরিচিত জেলা, নাম বলতে চাই না। নতুন ঢাকা এসেছি, কিছুই বুঝি না। বুঝেন তো সিনিয়র ভাইয়েরা কত রকম কথা কয়, সব কথা তো বোঝা যায় না, আর কিছু কথা নিজে থেকেই বুঝতে হয় না। রাতে এসে খাওয়ার পর, কি বলি না বলি, ভয়ে ভয়ে একদম চুপচাপ ঘুম দিলাম, সকালে উঠে ব্রাশ করি আর জানালা দিয়ে দেখি ঢাকার আকাশে কী সুন্দর বিমান উড়ছে!!! হঠাত ভাইয়ের এক রুমমেট বলল, কী রুবেল বিমান দেখ, দেখ দেখ , রাজশাহীতে ত আর বিমান উড়ে না!!! কথাটা শুনে মনে প্রচন্ড একটা ধাক্কা লাগল, মনে মনে খুব কষ্ট পেলাম, কি বলব বুঝতে পারলাম না, কথা ত সত্যি কইসে, মনে মনে কইলাম কেন যে আগেই ঢাকা পড়তে আসিনি!!! কিছুক্ষণ পর নাস্তা করে, চার জন একসাথে ম্যাথ করতে বসলাম, একটা ম্যাথ করেও ভাইয়ের দুই রুমমেট পারল না!!! তারপর দুইজন খুব আপন হয়ে গেল, আর স্লেজিং করল না, বাইরে ঘুরতে গেলে বিল ত দিতেই হত না, বরং বার বার বলে কী খাবা রুবেল বল। শুনেছি ৩৬তম বিসিএসে এক ভাই শিক্ষা ক্যাডারে হয়েছে, অন্য ভাইয়ের জানিনা, রাজশাহীর ভাই এস আই হিসেবে পুলিশে কর্মরত ও বেটার জবের জন্য ট্রাই করছে। কিছু বুঝলেন???? ম্যাথ পারলে ছোট-বড়,ছেলে বন্ধু-মেয়ে বন্ধু সবাই আপনাকে ভালবাসবে ।

যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন এবং হল গুলোতে অবস্থান করেন, একটু খেয়াল করেন হলে বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র রয়েছে। কোন বিষয়ে নেই বলেন। আপনি আগে indentify করেন আপনার সমস্যা তারপর সেটাকে সমাধান করার জন্য যান ত, কে আপনাকে সাহায্য করবে না!

বিসিএস পড়াশুনায় গ্রুপ আলোচনার বিকল্প নাই। আমরা আমাদের সমস্যাটাই খুঁজে বের করতে পারি না। অনেকে জানতে চাই ভাই এমন একটা গাইডের নাম বলেন যেটা পড়লেই হয়ে যাবে। আমি জিজ্ঞেস করি আগে আপনি বলেন কোন গাইড টা পড়ে এসেছেন, নাম বলেন প্লিজ, তারপর সেরা গাইড টার নাম বলে দিচ্ছি। তখন কোন উত্তর আসে না। চক্ষু লজ্জা মুছে ফেলেন, কে কি বলল, তাতে কান দিয়েন, মনের কথাটায় বার বার শুনেন -

আপনার মনের চাওয়াটা কি ! কী করে আনন্দ পান ! কিসের নেশা আপনাকে পাগল করে দেয় ! কোন পথে আপনি আপনার মানসিক শক্তি বেশি পান ! সেই পথ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

'যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে...হবে হবেই দেখা, দেখা হবে বিজয়ে ৷'

আমি খুব বড় স্বপ্ন দেখে অহেতুক বিশ্বাসী না, আমি চেষ্টাই বিশ্বাস করি, বাকিটা ঠিক করে দেয়ার মালিক আল্লাহ। হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েন না , ভাল কিছু একটা করতেই হবে জীবনে ।
বিসিএস ক্যাডার হতে হবে, এটা ঠিক। কিন্তু হতেই হবে, না হলে অন্য জব করব না এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে আসা প্রয়োজন। চেষ্টা করা আপনার কাজ আর আপনার জন্য কোনটা ভাল তা ঠিক করে দেওয়া সৃষ্টিকর্তার কাজ । তবে মন থেকে কোন জিনিস চাইলে আল্লাহ নিশ্চয় কবুল করবেন।

প্রতিযোগিতা কোন যুগে ছিলনা। পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে প্রতিযোগিতা, শেষ পর্যন্ত সেটা থাকবে। দিনে দিনে গুণোত্তর ধারার মতই বাড়বে নচেৎ কমবে না। প্রতিযোগিতা করেই আপনাকে জয়ী হতে হবে। পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে যুদ্ধ, কোন দিন শেষ হবে না, যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন যুদ্ধ থাকবে। এটাই চিরসত্য ।

প্রস্তুতি পরিকল্পনা (রেফারেন্স বই)-

নবম শ্রেনীর গণিত ও উচ্চতর গণিত বই
ওরাকল প্রিলি ও রিটেন ম্যাথ
প্রফেসর রিটেন ম্যাথ
আরিফুর রহমানের ব্যাংক ম্যাথ
এমপিথ্রি জর্জ ম্যাথ

কাদের হেল্প নিবেনঃ
নিজে চেষ্টা করা, গ্রুপ আলোচনা, গণিতে প্রাইভেট, চাইলে কোচিং করতে পারেন।

ম্যাথের পৃথিবী সেরা কৌশল হল যোগ, বিয়োগ, গুণ , ভাগ । অন্যান্য সূত্রগুলো এখান থেকেই উদ্ভূত । ত্রিভুজের সর্বসম হওয়ার শর্ত গুলো মনে রাখতেই হবে।

আশা করি প্রিলিতে ভাল ম্যাথের প্রিপারেশন আপনার ছিল, একটা সচ্ছ ধারণা আপনার আছে। ম্যাথ সৃজনশীল হয়েছে, তারমানে এই না, যে নতুন করে কোন নিয়ম সৃষ্টি হয়েছে, যা লাউ তাই কদু এই আর কী!! যে পারে সে সমানে পারে। যে পারেনা সে ভয়ে ভয়ে যোগ-বিয়োগে ভুল করে। লিখিত সিলেবাসে ১২ টাইপের ম্যাথের আইটেম আছে,

পাটীগণিতঃ
প্রথমেই পাটিগনিত অংশের ক্রয়-বিক্রয়, লাভ-ক্ষতি, শতকরা, সুদ-কষা, সেট ও সংখ্যা, কাজের অংক গুলো সমাধান করে ফেলেন, আলাদাভাবে খতায় করেন এবং আপনি যে গাইড থেকে ম্যাথ করছেন, বা যে ম্যাথ টা করছেন, এমন ভাবে বুঝে বুঝে করেন এবং পরে কালার পেন ও হাইলাইটার দিয়ে দাগিয়ে নেন,যেন অই ম্যাথ আর কোনদিন ভুল না হয়, ওই গাইড বই আপনার নোট হয়ে যাবে, একটা গাইড বই সমাধান করলে যে কোন বইয়ের ৯০% সমাধান হয়ে যায়। সূত্র মনে রাখার চেষ্টা করবেন যত তারচেয়ে বেশি উদাহরণ প্র্যাকটিস করবেন, সূত্র শুধু মনেই থাকবে না, কলমের নিপে চলে আসবে।

ম্যাথের উপর যখন ভাল ধারণা চলে আসবে, তখন আপনি পারলে প্রতিদিন অথবা এক দিন পর পর ধরে ধরে ২০ ধরনের সেরা ২০ টা ম্যাথ গাইডে অথবা খাতায় এমনভাবে দাগিয়ে দাগিয়ে প্র্যাকটিস করেন যেন ওই ম্যাথ টাই বুঝতে পারে আপনি টাকে ভর্তা বানিয়ে দিয়েছেন, এটা দুই মাস চর্চা করলে আপনার লেভেল আবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। ম্যাথ মুখস্থ করা আর আত্মঘাতি গোল দেওয়া একই কথা।
পাবলিক সার্ভিস কমিশন কিন্তু বেসিক ঠিক রেখে একটু ঘুরিয়ে ম্যাথ বাছাই করে প্রশ্ন প্রণয়ন করে। সুতরাং বার বার বেসিক বুঝার চেষ্টা করেন। আপনি বিজ্ঞানের ছাত্র হলে বলার কিছু নাই, হয়ত আপনি আমার চেয়ে ভাল বুঝবেন, শুধু প্র্যাকটিস করে যান। আশা রাখি অনেক ভাল করবেন।

Never shortcut but নিয়োমের মধ্যে নিজে নিজে কৌশল করে মনে মনে shortcut এ আসতে হবে, কিন্তু খাতায় করার সময় পরিপূর্ণ ম্যাথ করতে হবে। রাফ করলে ভুল কম হবে। সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
কখনও আগে সূত্র মুখস্থ করে ম্যাথ না করে, উদাহরণ চর্চা করেন আর সূত্র প্রয়োগ করেন, এমনিতে সূত্র ধরা দিবে এবং মনেও থাকবে।

বীজগণিতঃ
এখানে উৎপাদকে বিশ্লেষণ, সমাধান, ধারার অংক, লগ-সুচক ও সূত্রের মাধ্যমে মান নির্ণয় এই অংশ বেশি বেশি চর্চা করেন, প্রতিদিন চর্চা করেন। এখন একটা প্রশ্নের ক খ গ থাকছে অর্থাৎ আপনাকে ১৫-২০টা ম্যাথ এর সলুউশন করতে হবে। সময় জ্ঞান মাতায় রাখতে হবে।

জ্যামিতিঃ
হাতে গণে ১২-১৫ জ্যামিতি করলে কমন আসবেই, অন্য ম্যাথ পারলে জ্যামিতি করার দরকার নেই। তবে কোন সময় জ্যামিতিকে এড়িয়ে যাবেন না। ভালো লিখলে, পূর্ণ নাম্বারই পাবেন।

পরিমিতি ও ঘনবস্তুঃ
এখান থেকে কঠিন প্রশ্ন করা হয়না, তবে সমাধানে চিত্র দিতে হয় ও সমাধান একটু বড় হয় । সহজ ম্যাথ বলে উড়িয়ে দিবেন না, ধৈর্য্য ধরে সতর্কভাবে করবেন। পরিমিতি এবং ত্রিকোণমিতি তে ভুল করা যাবেই না। এখানে সহজ ম্যাথ থাকে, বুঝতে পারলে দ্রুতই সমাধান করতে পারবেন। রাফ করলে বেটার হয়।

স্থানাংক জ্যামিতিঃ দূরত্ব ও সরলসমীকরণঃ
এই অংশ টুকু অনেকের কাছে অপরিচিত, কারো হেল্প নেন অল্প সময়ে আয়ত্তে চলে আসবে। এখান থেকে একটা বা দুইটা খুব ইজি ম্যাথ আসবেই ,

ত্রিকোণমিতিঃ
দূরত্ব ও উচ্চতাবিষয়ক সমস্যাঃ বুঝতে পারলে খুব সহজ অংক, sin cos tan আগে নিজের মত বুঝে নেন। sin এর মান মনে থাকলে বাকি গুলো বের করা ইজি, cos এর মান হল sin এর বিপরীত, অর্থাৎ sin 0=cos 90, sin 30= cos 60,sin 45 = cos 45, same as cos 0= sin 90, cos 30 = sin 60, cos 45=sin 45 . tan= sin/cos, cot= cos/sin, sec =1/cos, cosec=1/sin,

ম্যাথ কাটাকাটি করা যাবে না, একটা ম্যাথ ভুল হলে বা কাটাকাটি হলে আপনার পুরো পরীক্ষার উপর খারাপ প্রভাব পড়বে। প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর, আগে একবার পড়ে নেন, উপরে কিছু লিখা আছে কিনা ভালো ভাবে দেখে নেন। সিরিয়াল মেনটেন করতে না বললে, যেকোন সহজ ম্যাথ দিয়ে শুরু করেন, যেটা আপনি স্বাচ্ছন্দ্য মনে করেন। সময়ের দিকে খেয়াল রেখে সমাধান করতে থাকেন। পারলে আপনি যে কয়টা ম্যাথ পারবেন সেগুলোর নিয়মের মধ্যে শর্টকার্টে রাফে উত্তর বের করে নিতে পারেন, তাহলে
দ্রুত আপনার ম্যাথ কন্ট্রোলে চলে আসবে, সময়ের আগেই ম্যাজিকের মতই সব কয়টি ম্যাথের উত্তর করতে পারবেন, ইনশাল্লাহ।

৩৫ বিসিএসের মত কঠিন হলে, পাস করা নিয়ে টানাটানি হলে, মাথা ঠাণ্ডা রাখেন, আপনার মত সবারই একই অবস্থা , কেবল মাথা ঠাণ্ডা রেখে চেষ্টা করে যান, নইলে পরীক্ষার হল থেকে বের, মনে হবে ইশশ এটা ত আমার জানা, এটাত পারতাম, তখন আপনি হাজার চেষ্টা করলেও মাথা গরম হবে না, ঠাণ্ডা মাথায় শুধু হা হুতাশ করতে হবে। ম্যাথ পরীক্ষা দিয়ে অনেকে কান্নাকাটি করবে। এটাই চরম সত্য কথা।


Mental Ability :

এখানে হার্ড লেভেলের এবং ইজি লেভেলের ইন্টেলিজেন্স প্রশ্ন করা হয়। গণিতের লিখিত অংশ কঠিন হলে মানসিক দক্ষতা সহজ হবে অথবা বিপরীত টা ঘটবে।

নিম্নোক্ত বিষয়ে ধারণা থাকতে হয়

গাণিতিক সিরিজ মিলানো
ইংরেজি শব্দ দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা
ইংরেজি বর্ণ দিয়ে শব্দ তৈরি করা
ইংরেজি ২৬ টি লেটার দিয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রশ্ন তৈরি করেন এবং উত্তর করেন।

Just example-
A B C D E F G H I J K L M
Z Y X W V U T S R Q P O N
=AZ BY CX DW EV FU GT HS IR JQ KP LO MN

ABCD EFGH IJKL MNOP QRST UVWX YZ
1234 5678 9101112 13141516 17181920 21222324 2526

Verbalঃ

সংখ্যাগত ক্ষমতা
সংখ্যা দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করা।
চিত্রে যোক্তিক সংখ্যা বসানো
ঘড়ি সংক্রান্ত সমস্যা।
দিন,তারিখ, মাস, বছর নির্ণয় করা ।
বানর ও শামুক সংক্রান্ত
দশমিক, বর্গ, বর্গমূল, শতকরা, কাজ, গতি, চোবাচ্চা, নোকা-স্রোত।
অসম্ভাব্যতা বিচার
অক্ষর মিলানো
শুদ্ধবানান (বাংলা ও ইংরেজি)
বর্ণ সংক্রান্ত সমস্যা
সমার্থক ও বিপরীত শব্দ
রক্তের সম্পর্ক নির্ণয়
শূন্যস্থানে সঠিক শব্দের ব্যবহার
সম্পর্ক ও বিশেষত্ব নির্ণয়
সাদৃশ্য
সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা
আয়নায় ও পানিতে শব্দের প্রতিফলন
দিক নির্ণয় করা
ছোট-বড় সম্পর্ক নির্ণয় করা
এনালজি টেস্ট
বর্গ,ত্রিভুজ ও আয়তক্ষেত্রের সংখ্যা নির্ণয়
জ্যামিতিক সমস্যার সমাধান ও কোন নির্ণয়
বিভিন্ন চিত্র নির্ণয়
চিত্র যুক্তি ও দৃশ্য
পরিশেষে জ্ঞান বা সাধারণ জ্ঞান যেটাই বলি না কেন।

Non-verbal/ mechanical test – নিজে চেষ্টা করলে পারা যায়, বা গ্রুপ আলোচনা অথবা defence test guide দেখলে ভাল।


লিখিত পরীক্ষার মাঝে প্রিলি পরীক্ষা হল মানসিক দক্ষতা পরীক্ষা, মার্ক ৫০ সুতরাং অবহেলা না করে নিয়মিত চর্চা করুন, এটা চর্চা করলে অন্যান্য সকল বিষয়ে আপনি কৌশিলি হয়ে উঠবেন, মানসিক দক্ষতা ভাল পারলে মানসিক শান্তিও বেশ ভাল পাওয়া যায়, যেটা সবাই চাই। চাওয়ার ধরণ হয়ত ভিন্ন।

গণিতে ভালো করতে হলে নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। যত বেশি অনুশীলন করবেন আপনি তত বেশি দক্ষ হবেন।

প্রিলি, লিখিত ও মানসিক দক্ষতা মিলে ৫০ টার বেশি অধ্যায় থাকার কথা নয়,
তবে একদিনে সব অধ্যায় পড়ার চিন্তা মাথায় আনা যাবেনা। প্রতিদিন দুইটা বা তিনটা অধ্যায় নির্বাচন করুন। সেই অধ্যায়ের খুঁটিনাটি জানার চেষ্টা করুন। যেটা পারবেন না, দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য কারো হেল্প নেন। এই কাজ টা করতে কখনও দ্বিধা করবেন, ম্যাথে আপনাকে ভাল করতেই হবে, আমি আপনাকে বলছি আপনি দুর্বল না, চেষ্টা করলে আপনি পারবেন, এটা নিশ্চিত। ২০ দিন নিয়মিত চর্চা করার পর দেখবেন সব গুলো অধ্যায় এর উপর একটা ধারণা চলে আসবে। ৩৫,৩৬,৩৭ বিসিএসের ম্যাথ প্রশ্ন (লিখিত ও মানসিক দক্ষতা) ভাল করে পর্যালোচনা করেন এবং প্ল্যান করেন।আগের বছরের প্রশ্ন গুলো দেখতে পারেন, ভাল ধারণা পাবেন, একটু চিন্তা করেন পিএসসি কীভাবে ম্যাথ পরীক্ষার প্রশ্ন বাছাই করে, দায়িত্বটা আপনাকে অর্পণ করা হলে, নিশ্চয় খুব সহজ প্রশ্ন আপনি করবেন না, তাই না। ভাবতেই পারেন, এমন স্ট্যান্ডার্ড মানের প্রশ্ন করব যেন প্রকৃত মেধাবিরা বেরিয়ে আসে। প্রার্থী ছাটাই করতে পিএসসি ম্যাথে কঠিন প্রশ্ন বাছাই করে থাকে। রিটেন পাস করলেই হয় না, ভাল নাম্বার পেয়ে পাস করতে হয়, বিষয় গুলো আপনারা সবাই বুঝেন, নতুন করে বলার কিছু নাই ।

বইয়ের যত্ন না নিয়ে আপনার প্রিপারেশন যত্ন করে নেন। লক্ষ্যে পৌছানোটায় আসল কথা । জাদুঘরের মত টেবিলে বই সাজিয়ে রাখলে হবে না, দর্শক হয়ে বার বার দেখবেন নাকি? পড়ে পড়ে আলুর ভর্তা বানিয়ে দিতে হবে কিন্তু ।

সব প্রশ্নের মান সমান। তাই অযথা কোন প্রশ্নকে গুরুত্বপূর্ন মনে করার দরকার নেই। প্রশ্ন আপনার একার জন্যে কঠিন না সবার জন্যেই কঠিন। কঠিন প্রশ্ন কে কঠিন ভাবেবন না , ব্যাশ, সহজ হয়ে যাবে। পেইন নিলে পেইন না নিলে গেইন ।

গণিত নিয়ে ভয় রাখা যাবেনা, আপনি যে বিষয়ে ভয় পাবেন সে বিষয়ে বেশি সময় দেয়ার চেষ্টা করবেন । কোন বিষয় বাদ দেয়া যাবেনা, সব বিষয়ে সমান পারদর্শী হবার চেষ্টা করতে হবে । হাতে অস্ত্র থাকলেই তো আর হয়না , অস্ত্রটা সঠিকভাবে সঠিক সময়ে চালনা করাটাও জানতে হবে । তেমনি শুধু স্টাডি করলেই হয়না , স্টাডিটাকে প্রয়োগ করার দিকে বেশি নজর দিতে হবে ।

গনিত নিয়ে দেখা যায় অনেকেরই টুকটাক সমস্যা থাকে , তবে সবার না। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময় ভালমতো স্টাডি হলে সেটা আপনাকে লিখিত পরীক্ষাতেও সাহায্য করবে । সময় নষ্ট করবেন না, আজ থেকেই শুরু করে দিন । সফলতা আপনাকেই ধরা দিবে!!

ম্যাথের কোন বই পড়ব ?? কমন প্রশ্ন, আমি বলি ম্যাথের সূত্র পরিবর্তন করতে পেরেছে এমন কোন গাইড বই আছে, নিশ্চয় নাই, যেকোন বই পড়তে পারেন, বেসিক এক। আপনি এমপিথ্রি, ৯ম-১০ম শ্রেণীর বই, ওরাকল, প্রফেসর না দুই সেট ডাইজেস্ট পড়বেন সেটা বড় কথা নয়, বেসিক বুঝে বুঝে গুরুত্বপূর্ণ আইটেম গুলোর উপর আপনি দখল আনতে পেরেছেন কী না। মনে রাখবেন অনেক ভাল ছাত্র নিয়োমিত চর্চার মাধ্যমে অভাবে খুব খারাপ করে, আবার ম্যাথ কম পারে এমন ছাত্র নিয়োমিত চর্চার মাধ্যমে ম্যাথে ছক্কা মেরে চলে আসে।

চাকরির পড়শোনায় ম্যাথ ও ইংরেজি চর্চা করা এবং বার্সা,রিয়াল ও ইন্ডিয়ান টিমে ফর্ম ধরে রাখা একই কথা, নিয়োমিত চর্চার বিকল্প নেই, পাশে ভাল কোচ থাকলে ত দারুন!!

রাজনীতি করতে হলে যেমন নীতি থাকতে হয়, সাঁতার জানতে হলে যেমন পানিতে নামতে হয়, ঠিক তেমনি ম্যাথ করতে হলে কৌশল, সূত্র ও টেকনিক জানতে হয়। ম্যাথে মুখস্থ মানা। বার বার পড়ে ম্যাথের ভাষা বুঝতে হবে । কী চায় আর কী তথ্য ও কাঁচামাল সরবরাহ দিয়েছে প্রশ্নটা, এটা না বুঝে কখনও ম্যাথ করবেন না। পারলে রাফ করে নেন, MCQ প্রশ্নের মত নিয়োমের মধ্যেই শর্টকার্ট দিয়ে অংকের উত্তর বের করে নিতে পারলে, ম্যাথ ভুল হবার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

বিসিএস ম্যাথ পরীক্ষায় বলবিদ্যার গণিত দেওয়া হয়না, সহজ বিদ্যার গণিত দেওয়া হয়। এখানে খুব কঠিন প্রশ্ন করা হয় না। কিন্তু বিসিএস গণিত পরীক্ষা এটা ভাবলে মনে ভয় কাজ করে। ভয় খুব ক্ষতিকর । ভয় পাইলে বাঘ বিড়াল হয়ে যায় । আর ভয় দেখাতে পারলে বিড়াল বাঘ বনে যায়। বাস্তব জীবনে কিন্তু তাই ঘটে থাকে। সুতরাং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ভয় পাবেন, নাকি সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করবেন, একটু চিন্তা করেন। মানসিক ভাবে শক্তি সঞ্চার করেন। মনের শক্তিই বড় শক্তি। মানুষ পোলাও কোর্মা, বিরিয়ানি খেয়ে চলে না, চলে মনের শক্তি দিয়ে। আবেগ, অনুভূতি, ভাললাগা, ভালবাসা, প্রেরণা, অনুপ্রেরণা, মনের ইচ্ছা শক্তি, এগুলোই জীবন চলার পথে পাথেয়। Dear candidates, keep it in your mind that this is National Level Competitive Exam, so before being topper, try to be mentally topper.

একটা প্রশ্নের ভাল উত্তর দেওয়ার চাইতে, একটা ভাল প্রশ্ন করাই কঠিন। যারা ম্যাথে দুর্বল, তারা নিজেকে প্রশ্ন করেন, কেন আপনি ম্যাথে দুর্বল? হয়ত ৮ম,৯ম শ্রেণী থেকেই ম্যাথকে ভয় করেন, বার বার এড়িয়ে গেছেন, আমি পারবোনা বলে। সঠিক সময়ে আপনার দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারলে, এবং যারা ভাল ম্যাথ পারেন, তাদের শরনাপন্ন হলে, এমনকি প্রাইভেট পড়লে ও নিয়মিত চর্চার করলে, দুই থেকে তিন মাসে আপনি যেকোন জবের পরীক্ষায় ভাল করা যায়। আমার দেখা ৯০ দিনে সেরা পরিশ্রম টা দিয়ে বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় ৯০তম হয়েছে, আমার স্কুলের দুই বছরের সিনিয়র এক ভাই। যেখানে পুরো খেলাটাই নির্ভর করে ম্যাথের উপর ।

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ম্যাথে ভাল নাম্বার না পেলে, পছন্দনীয় ক্যাডার পাওয়া স্বপ্নই থেকে যাবে। বার বার বলতে হবে, ইশশ ম্যাথ টা ভাল হলেই পুলিশ, অ্যাডমিন চলে আসতো। অথবা যারা বাংলাদেশ ব্যাংকের এডিসহ, বিভিন্ন ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার, অফিসার ও সিনিয়র অফিসার পরীক্ষায় একটা ম্যাথ ভুল হলেই জব পাওয়ার প্রত্যাশা কমে যায়।

ম্যাথের ভাষা বুঝে বুঝে ম্যাথ চর্চা করেন, না পারলেই গ্রুপ করে আলোচনা করেন, প্রাইভেট পড়েন, কোচিং করেন, বড় ভাইদের হেপ্ল নেন, আশে পাশে যে ম্যাথ ভালো পারে, তার কাছে যান, আমি হলফ করে বলছি আপনি ম্যাথ পারবেন, আপনাকে ম্যাথ পারতেই হবে।আর কখনও নিজেকে দুর্বল ভাববেন না। নিজেকে দুর্বল ভাবা মানে নিজেই নিজের কাছে পরাজয় বরণ করা। এটাকেই বলে Inferiority complex, এটা যে আপনার ভীতরে আছে এটা আপনি নিজেই জানেন না। এটা থাকলে আপনি সব সময় নিজের চাইতে অন্যকেই সেরা ভাববেন। So never do that.
কবে।

পরিশেষে গানের ভাষায় বলি, ভালবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়। জীবন যত বড় বিসিএস তত বড় নয়।

শুভ কামনা রইল ।

মোঃ রুবেল হক,
ASP(সুপারিশপ্রাপ্ত)৩৬তম বিসিএস

পোস্টটি শেয়ার করুন ...

"Job Circular " Android App

সবার আগে প্রতিদিনের বিভিন্ন পত্রিকা এবং অনলাইনে প্রকাশিত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের চাকরির বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার নোটিশ ও নিয়োগ প্রস্তুতি নিয়ে এই অ্যাপ।
প্রধান বৈশিষ্ট্য
🔔 "Notification" এর মাধ্যমে আপনি অ্যাপ Open না করেই আপনার মোবাইলের Notification বার এ জানতে পারবেন গুরুত্বপূর্ণ চাকরির খবর এবং পরীক্ষার নোটিশ। বিস্তারিত জানুন
Get it on Google Play

FB Comments
Comments
Disqus
Comments :

Comments